এখন সময় রাত ২:৫২ আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী


Home / জাতীয় / দেশের ২০৯টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল

দেশের ২০৯টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল

ডেস্ক  রিপোর্ট: নানা অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে দেশের দুই শতাধিক এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই এনজিওগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েও এক থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছে। তারা নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করেনি। এসব এনজিওয়ের কর্মকাণ্ড নিয়েও সন্দিহান ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনজিও ব্যুরো। তাই সম্প্রতি ২০৯টি এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে ব্যুরো। এ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতাসহ গোপনে যে কোনো সমাজ-রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সরকারি সূত্রগুলো দাবি করেছে। এ বিষয়ে এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এনজিওগুলোকে নবায়নের জন্য প্রথম দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যারা নবায়নের আবেদন করেনি, তাদের পরে ‘নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না’ মর্মে শোকজ করা হয়। এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। এর পরও যারা জবাব দেয়নি কিংবা উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এ ধরনের সংস্থার সংখ্যা দুই শতাধিক।

 তিনি জানান, নিবন্ধন বাতিলের চিঠি এরই মধ্যে এনজিওগুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিলেটের আম্বরখানা এলাকায় দেওয়া গ্রীন ডিসঅ্যাবলড ফাউন্ডেশনের অফিসের ঠিকানায় গত ৪ মার্চ এনজিও ব্যুরোর পরিচালক (নিবন্ধন ও নিরীক্ষা) শাহাদৎ হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়। সে চিঠি ফেরত এসেছে ব্যুরো কার্যালয়ে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ঠিকানা দেওয়া হলেও এ রকম অনেক এনজিও অস্তিত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ব্যুরোর পরিচালক শাহাদাৎ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, বাতিল এনজিওগুলোর অনেকেই বিদেশি অনুদান পায় না। এগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাই স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেকগুলোর আবার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

এনজিও সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে বৈদেশিক অনুদান নির্ভর দেশি-বিদেশি দুই হাজার ৬০৮টি এনজিও রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি এনজিও ২৫৮টি।

বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন আইন ২০১৬ অনুসারে এনজিওগুলোকে ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। এসব সনদ ১০ বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন নবায়ন না করায় ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৯৫টি এনজিওকে ৬০ দিনের মধ্যে নবায়নের আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়; কিন্তু অনেক এনজিওই বাস্তবায়ন করেনি এ নির্দেশ। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধাপ শেষে এসব সংস্থার নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো।

নিবন্ধন বাতিলকৃত এনজিওগুলোর তালিকা :নিবন্ধন বাতিল হওয়া এনজিওগুলোর মধ্যে রয়েছে- কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি সার্ভিস ওভারসিস, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর ভলান্টারি স্টেরিলাইজেশন, বাংলাদেশ লুদারান মিশন নরওয়ে, জাতীয় চার্চ পরিষদ, শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন অব ভলান্টিয়ারস ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ, শিশু মঙ্গল সমাজকল্যাণ সমিতি, গণ বিদ্যাপিঠ, ফ্যামিলি কেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বহুমুখী মিলন সংঘ, প্রগতি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, প্রগ্রেসিভ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, সোনালী সংঘ, অ্যাসোসিয়েশন ফর লিগ্যাল এইড টু পুওর, ইসলামী পরিবার কল্যাণ সংস্থা, এসডিও, বিসিসি ফাউন্ডেশন, শহীদ স্মৃতি সংঘ, জাগরণী সমাজকল্যাণ সমিতি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস, সিবালী ট্রাইবাল টেক্সটাইল, গ্লোবাল-২০০০, অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল আপলিপ্টমেন্ট, স্বদেশ উন্নয়ন সংস্থা, জাগরণী এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ইন্টিগ্রেটেড ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, বাংলাদেশ মহিলা সংস্থা, দেশ কল্যাণ সংস্থা, ফ্যামিলি অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, সমাজসেবা সংগঠন, মৌখারা বহুমুখী সমাজকল্যাণ সংস্থা, মৈত্রী সংস্থা, কয়রাডাঙ্গা ক্লাব ও মৌলিক চাহিদা কর্মসূচি।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে- চক্রব্যাংক সমাজকল্যাণ সংসদ, ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সঞ্চয়, মার্সি ইন্টারন্যাশনাল, গোনাগারি মহিলা সমিতি, ইসলামিক রিলিফ কমিটি বাংলাদেশ, নবারুণ সমিতি, মা ও শিশু সংস্থা প্রকল্প, সাহকো ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, সেন্টার ফর অ্যানালাইসিস অ্যান্ড চয়েজ, চকতিলক বহুমুখী সমবায় সমিতি, রুরাল ডেভেলপমেন্ট, ইসলামিক রিলিফ কমিটি, চাঁদপুর আত্মনিবেদিত মহিলা সংস্থা, মৈত্রী পরিষদ, বাংলাদেশ রুরাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভেলপমেন্ট, ইউনাইটেড সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ ২০০০, লাভ অ্যান্ড পিস, কোস্টাল ভলান্টিয়ার কর্পস, হিউম্যান ওয়েলফেয়ার সেন্টার, বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট সোসাইটি, বহুমুখী মহিলা উন্নয়ন সমিতি, দারুল কুরআন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইন্টার রিলিজিয়াস কাউন্সিল ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস, ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর ডিসট্রেসড, ফরিদপুর ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি, গ্রাম উন্নয়ন ও দুস্থ সেবা কেন্দ্র, কমপ্রিহেন্সিভ প্রোগ্রাম ফর অ্যাডভান্সমেন্ট, ময়মনসিংহ পল্লী উন্নয়ন প্রয়াস, দুলাই জনকল্যাণ সংস্থা, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস সোসাইটি, গণকল্যাণ স্বাবলম্বী সংস্থা, লোক উন্নয়ন কেন্দ্র, মশিউরনগর মহিলা সবুজ সমাজকল্যাণ সংস্থা, চিত্রা মহিলা সমিতি, ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি, চট্টগ্রাম লায়ন ফাউন্ডেশন ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর আন্ডার প্রিভিলেজড উইমেন।

তালিকায় আরও রয়েছে- বাংলাদেশ সোশ্যাল সার্ভিস, আমরা কিছু করি, সার্ভিস সিভিল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সমাবেশ ইনস্টিটিউট, পল্লী উন্নয়ন সংস্থা, আদর্শ পল্লী উন্নয়ন, ইনসাফ, সেন্টার ফর আপলিফটমেন্ট অব রুরাল ইকোনমি, বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন, মিরপুর ফ্যামিলি প্লানিং প্রজেক্ট, বাংলাদেশ পভার্টি অ্যালিভিয়েশন কো-মুভমেন্ট, বাংলাদেশ জাপান ইনস্টিটিউশনাল সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন, জনকল্যাণ সংস্থা, উদ্যম বহুমুখী সমাজকল্যাণ সংস্থা, চল চল ফাউন্ডেশন, আইডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল, সেভ আরবান অ্যান্ড রুরাল পুওর, মগাদিয়া শিশু সদন, এসো কাজ করি, সোসাইটি অব আপগ্রেডিং লাইফ, মহিলা নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমাজকল্যাণ সমিতি, সেন্টার ফর অ্যালিভিয়েশন অব রুরাল পভার্টি, পল্লী সামাজিক কার্যক্রম সংস্থা, ফাউন্ডেশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্রোচ, চুয়াডাঙ্গা পৌর উন্নয়ন সমিতি, পল্লী কল্যাণ কেন্দ্র, ডিসঅ্যাবলড চিলড্রেন হোম, জীবন, প্রয়াস সমাজকল্যাণ সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র, কুমারি ডাঙ্গা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা, সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার, বঙ্গীয় সাংস্কৃতিক চক্র, মানব উন্নয়ন সহায়ক সংস্থা, সংকল্প, ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফোরাম, সেবা সমাজ কল্যাণ সংস্থা, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, কোস্টাল রিসোর্স সেন্টার, ওয়ার্ল্ড ভিউ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, দোহার মানবিক উন্নয়ন সংস্থা, রিসোর্স বাংলাদেশ, প্রজেক্ট ফাইভ জিরো বাংলাদেশ, অ্যাসোসিয়েটস ইন কমিউনিটি অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার, নদার্ন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন, সমাজ প্রগতি পরিষদ, ক্যাম্প, বেতাগী গুডউইল স্কুল ফাউন্ডেশন, অপরাজিতা মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব দ্য ডিসঅ্যাবলড পিপল, বারাইগাঁও অরফানেজ, কমিউনিটিস রুরাল অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল সার্ভিস, কমিটেড অর্গানাইজেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এক্সটেনশন সার্ভিসেস, সার্ভিসেস ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ও হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর লেস প্রিভিলেজড।

এ ছাড়া নিবন্ধন বাতিলের তালিকায় রয়েছে- আলো, ইউনিয়ন অব সোশ্যাল হোস্টেজ ফর অ্যাডভান্সমেন্ট, জাগরণ মহিলা সমিতি, প্রান্তিক, মুক্তিপথ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ব্রিজ, গ্রাম বাংলা সংস্থা, গণ উদ্যোগ ফোরাম, সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, বঙ্গ জননী, কপোতাক্ষ, ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল, কনফিডেন্স, পুওরস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, গণ উন্নয়ন একাডেমি, কোস্টাল ফিশারফোক কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ডিসঅ্যাবলড, অরবিন্দ শিশু হসপিটাল, এসডিএস, সিকুর, ছায়াকানুন উন্নয়ন সংস্থা, ফ্রেন্ডস প্রোগ্রাম, প্রগ্রেসিভ রুরাল অর্গানাইজেশন ফর ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিস, অনন্যা মহিলা সমিতি, বিরিশিরি বহুমুখী মহিলা সমবায় সমিতি, মৈত্রী, কর্মজীবী সংস্থা, ইন্টিগ্রেটেড সোসিও ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, গ্লোবাল ভিলেজ, আশাশ মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, সাউদার্ন সোসিও ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, হাঙ্গার রিমুভাল অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ভিস্যুয়াল হ্যান্ডিকেপড, ইউনাইটেড প্রোগ্রেস ইন এগ্রিকালচারাল ইল্ড, গ্রীন বাংলাদেশ, বিলচলন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস সেন্টার, মুক্তি শিক্ষা, বন্ধন বহুমুখী সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর লাভ দ্য চিলড্রেন, রাজব মায়মুনা ট্রাস্ট, উত্তর বসুরিয়া ওয়েলফেয়ার সংস্থা, জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ বাংলাদেশ, সমিক, পল্লী পুনর্গঠন ক্লাব, সোসাইটি অব প্রগ্রেসিভ অ্যাকশন ফর নিডি, সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট সেন্টার, জাপান-বাংলাদেশ সাপোর্ট, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব দ্য পুওর, গ্রীন ডিসঅ্যাবলড ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা আত্মনাভাথা মহলিয়া সুংগাটা, কল্যাণ প্রচেষ্টা, সাতক্ষীরা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, সারভাইভাল, রূপসী বাংলা উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ফান্ড রেইজিং গ্রুপ, সেন্টার ফর ডিফারেন্টলি অ্যাবলড, নয়াতলা দারুসসালাম অরফানেজ ও আব্রিড।

এনজিওগুলোকে যে কারণে কঠোর নজরদারি

জানা গেছে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এনজিওগুলোকে কঠোর নজরদারিতে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে এনজিওর কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে চলে আসায় সরকারবিরোধী কার্যক্রম রোধে এনজিওর কার্যক্রমে নজরদারির বিষয়ে আরও তৎপর হয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বেশকিছু এনজিওর বিষয়ে আপত্তিকর তথ্য পায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাসহ দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এরা কাজ শুরু করে। সব সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এরপরই অনেকগুলো এনজিওর কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করে দেয়া হয়।

এসব এনজিও রোহিঙ্গা এলাকায় কোনো ধরনের কার্যক্রম চালাতে পারবে না। পাশাপাশি আগে বিদেশ থেকে অর্থ এনে তারা কোন খাতে ব্যয় করছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এনজিও হল- ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ফ্রেন্ডশিপ, একলাব, সোয়াব, আসিয়াব, আসার এবং বাস্তব উল্লেখযোগ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনজিওগুলোর ওপর সরকারের বিশেষ নজরদারির কারণে বিদেশি অর্থ ছাড়ের প্রবণতা কিছুটা কমেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, ২০১৭-১৮ বছরের প্রথম ৯ মাসে এনজিও ব্যুরোর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা অনুদান এসেছে। আগের বছরে এর পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে অনুদানের বড় একটি অংশই এসেছে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য। আর রোহিঙ্গাদের অংশ বাদ দিলে অর্থছাড় অনেক কমে যাবে।

তবে এনজিও ব্যুরো সূত্র বলছে, বিষয়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। যে কারণে খুবই সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কারণ একদিকে নজরদারির জন্য সরকারের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে একবার কোনো এনজিওর তহবিল বন্ধ করে দেয়া হলে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো আর টাকা দিতে চায় না।

সূত্রটি আরও বলছে, এ খাতে অনিয়ম রয়েছে। কিন্তু যেসব অর্থ ছাড় হচ্ছে, তা দেশের মধ্যে ব্যবহার হয়। ফলে এটি শুধু অনগ্রসরদের সহায়তা নয়, এ খাতে বিশাল কর্মসংস্থান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে মানি লন্ডারিং, জঙ্গি অর্থায়নের ব্যাপারে সব সময়ই সরকার জিরো টলারেন্সে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে, সরকারবিরোধী কার্যক্রম। আগে এ বিষয়টিকে এত বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতো না।

বাংলাদেশে এনজিওগুলোর কার্যক্রম

এনজিও ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ২৪৯টি এনজিও কাজ করছে। একক দেশ হিসেবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। বর্তমানে দেশটির (যুক্তরাষ্ট্র) ৭৯টি এনজিও রয়েছে বাংলাদেশে। অন্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ৪৪টি, ডেনমার্ক ৫, ফ্রান্স ৮, স্পেন ৪, সৌদি আরব ৬, দক্ষিণ কোরিয়া ১৪, নেদারল্যান্ডস ১১, জাপান ১৭, থাইল্যান্ড ১, ফিনল্যান্ড ২, নরওয়ে ৪, অস্ট্রেলিয়া ১১, সুইজারল্যান্ড ৯, ইতালি ৪, বেলজিয়াম ৩, সুইডেন ৫, সুদান ১, হংকং ২, নিউজিল্যান্ড ২, কুয়েত ২, ভারত ২, কাতার ১, তুরস্ক ১ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১টি এনজিও কাজ করছে। এসব এনজিও সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে স্বাস্থ্য খাতে। এরপরেই রয়েছে শিক্ষা। গত ১০ বছরের মধ্যে বিদেশি এনজিওগুলোর নামে প্রতিবছর গড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড় হয়েছে।

Check Also

সদর ওসি ( তদন্ত) মজিবুর রহমান পুরস্কৃত

ডেস্ক রিপোর্ট: সন্ত্রাস, জুয়া, মাদক ও অপরাধ দম বিশেষ ভুমিকা রাখায় গাইবান্ধার সদর থানার ইন্সপেক্টর …